বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

তিন

 খুব অল্পদিনের মধ্যেই পুরোনো হয়ে যেত চেঁচামেচি কান্নাকাটি ঝুলোঝুলি করে বের করে আনা জন্মদিনে পাওয়া কাঁচের আলমারীতে সাজানো  পুতুলগুলো....চুলগুলো শ্যাম্পু মাখিয়ে মাখিয়ে টাক ফেলা....চোখ খোলা বোজাগুলোর কোনো চোখই হয় পুরোপুরি খোলে না কি বোজে না... জামার লেস ছিঁড়ে ঝুলছে আর হাত পা গুলোও নড়বড়ে হয়ে আসত কেমন....কি স্বস্তি পেতাম....এতদিনে যেন ওরা পিসির  আলমারী থেকে আমার সিঁড়ি ল্যান্ডিং এ বসার যোগ্য হল .... পন্তুকাকুর টেলারিং দোকান থেকে  চেয়েচিন্তে নিয়ে আসা ছিটকাপড় দিয়ে জামা বানাতে বসতাম তাদের। পুরোনোরা এতই পুরোনো যে কিছুতেই আর পুরোনো হত না অথচ নতুন গুলোকে পুরোনো বানাতে সে কি মেহনত!কত নতুন নতুন ঠাকুর আসত মায়ের কাঠের আসনে...বেশ করে তেল সিঁদূর গংগাজলে দলাই মলাই করে তাদের পুরোনো অথেনটিক ঠাকুর বানাতে উঠেপড়ে লাগত মা নিষ্ঠাভরে.... আমরা নতুন জামা পরে সেই বহু বচ্ছরের প্রতিষ্ঠিত বাড়ির পুরোনো নারায়নের পুজো করতাম.... পুরোনো চাকর, পুরোনো ঘি, পুরোনো বই এর কি কদর!  পিসিমনিদের বাগান থেকে গোলাপ ফুল চুরি করে কিভাবে সেটার ডাঁটি টা মাটিতে ঘষে দিলে গাছ থেকে খসে যাওয়া পুরোনো ফুল মনে হবে শিখিয়েছিল  দিদিটা... কিন্তু বিশ্বাস করেনি কেউ.... ঠাস করে চড় মেরেছিল মা... কেঁদে মরে গেলেও বলিনি ফুল চুরি শেখানোর সময় দিদিটার পাশ দিয়ে একটা সবুজ সাপ কিলবিল করে ঘাসে মিশে যেতে দেখেছিলাম..... আচ্ছা মিলে যাওয়া আর মিশে যাওয়া কি এক? না বোধহয়। যেখান অব্দি ভাবতে গিয়ে পিছোতে পিছোতে আমার ভাবনাটা ঘুমের স্বপ্নে তলিয়ে যায় সেটাই হয়ত মিশে যাওয়া আর স্বপ্ন থেকে উঠে যখন দেখি টাটকা একটা সকাল হয়ে গেছে তখন মিলে যায়...আস্ত একটা দিন মেলে তখন, যেন সেই সিনেমায় শেষে খুব খানিক মারপিট হলেই "এইবারে মিল হবে" র অপেক্ষা করতাম, যদিও মিলত না, শেষের সময় আগত....এক্ষুনি নায়ক নায়িকাকে চুমু খাবে, চোখের পাতা টানটান, ঝপ করে টিভিটা বন্ধ করে সন্ধ্যে দিতে উঠে যেত মা, এ যেন হবারি ছিল... অনিবার্যতাকে আমার ভালোলাগেনা...লাগত না....কাঠপিঁপড়ে কামড়ে দিলেই আমার অনিবার্য  জ্বর  আসে...বিবিদিদিদের বাড়ির গেটে অজস্র কাঠপিঁপড়ে, গোড়ালী উঁচু করে প্রতিবারি গেট খোলার সময় হাতে কামড়ে দিত....মুহুরতে হাতটা কেমন ফোলা পাউরুটি হয়ে যেত...ডাক্তার বদ্যি...একটু ভালো হয়ে আবার ছুটে ওদের বাড়ি গেলে গেট থেকেই ওর মা গাল ফুলিয়ে বলত "আসবি না আমাদের বাড়ি, কামড় খাবি... আর তোর জন্য তোর পিসির কাছে কথা শুনতে হবে আমায়..." সত্যি ত.... আজও বুঝতে পারিনি দোষটা কার....আজও বুঝতে পারিনা ঠিক কোনটা জরুরী....সবুজ সাপের কথাটা বলা উচিত ছিল বাড়িতে? .... পিঁপড়ের কামড়...  কাকিমার সেই গাল ফুলিয়ে আসতে বারন করার পরেও রোজ বিকেলে ওদের বাড়ির সামনের রাস্তাটায় খেলা....যাতে দিদিটা একবার বই থেকে মুখ তুল্লেই দেখতে পায় আর পিসিমনিদের বাগানে খেলতে খেলতে সেইসব আজগুবি গল্পগুলো বলে যাতে মিশেল ছিল কল্পনার আর যাকে মেলাতে গিয়ে একটা একটা করে বিকেল সেলাই করে জুড়তাম...

৩টি মন্তব্য:

চার

এম্নিও ডুগডুগি বাজানো যায় বটে তবে লোকজন ভারী রাগ করে দেখিচি 🤔।শুদু কি তাই,  নিস্তব্ধ দুকুরে কখনো মেলা থেকে কিনে দেওয়া দেশি ড্রাম যা কিনা দড়...