বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

চার

এম্নিও ডুগডুগি বাজানো যায় বটে তবে লোকজন ভারী রাগ করে দেখিচি 🤔।শুদু কি তাই,  নিস্তব্ধ দুকুরে কখনো মেলা থেকে কিনে দেওয়া দেশি ড্রাম যা কিনা দড়ি ধরে টানলে ঘরময় ঘুরত আর দুটো প্যাঁকাটি চাকার ওপর বসানো কিজানি কিসের চামড়ার আচ্ছাদনে পালা করে পড়ে বিকট এক শব্দ তুলে ভারী আহ্লাদ দিত আমাদের আর মা পিসিরা কাঁচা ঘুম ভেঙে এসে পিঠে খুব খানিক কিল কষিয়ে সাধের বাদ্যযন্ত্রটি কেড়ে নিয়ে ফাঁটা ঘুম জোড়া দিতে যেত সেইটার কথাই ধরো না। তাছাড়া বাজাতে যখন দেবেই না তখন সাড়ে ছ টাকাওয়ালার কাছ থেকে প্লাস্টিকের ডুগডুগিই বা কিনে দেওয়া কেন বাপু! বলি সগগে মহাদেব টেব কি পাঁজি পুঁথি তিথি নক্ষত্র দেখে ডুগডুগি বাজায়? নাকি সারা সকাল ইস্কুল, পড়াশোনা, চান খাওয়া ইত্যাদি অখাদ্য অথচ অবশ্যকত্তব্যগুলো সেরে তবেই না নিরিবিলি দুকুর দেখে কৈলাশের উঠোনে আমগাচতলায় যেখানে সিঁড়িঘর তোলার সময় বেঁচে যাওয়া বালির পাহাড় আর ইঁটের পাঁজা সাজানো আছে, ওই যে গো যেখানে মীনাকুমারী তার ছানাপোনাদের নিয়ে ফি বচ্ছর সংসার পাতে আর যেখানে তুমি গোল গোল মাটির মার্বেল গুলি পেয়ে খুব খানিক খেলেধুলে আহ্লাদে পিসিকে দেখাতেই কুকুরের শুগনো ইয়ে বলে ভর সন্দ্যেবেলাতেই কুয়োর ধারে ডাঁড় করিয়ে বালতি বালতি জল ঢেলেছিল তোমার মাথায়, ঠিইইইক সেইখানেতে উবু হয়ে বসেই কি তার সাধের ডুগডুগিটি বাজান না? তখন বুজি মা দুগগা এসে এমনি করে তার কান টি পেঁচিয়ে অন্ধকার ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে থাবড়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন?!  নিয্যস না! অথচ আমাদের দেখো! আরে বাবা  তান্ডব না জানি তুলকালাম ত জানি! কিন্তু রণক্ষেত্রে সেই তুলকালামের চাকা এমনিভাবে ডুবে যায় প্রতিবার যে সদ্দি কান্নায় কাজলে চুলে লেপটানো মুখে ঠান্ডা অন্ধকার ঘরে মা পিসির পাশে শুয়ে ঘড়ির টিকটিক গোনা আর দু একবার চুপিসারে ওঠার চেষ্টা কল্লেই "উঠলেই চামড়া ছাড়িয়ে ডুগডুগি বানাব তোর" হুমকি শুনে নিজের খড়ি ওঠা হাতেপায়ের দিকে সস্নেহে তাকানো ছাড়া আর উপায়ই বা কি থাকে বলো!, 😪

তিন

 খুব অল্পদিনের মধ্যেই পুরোনো হয়ে যেত চেঁচামেচি কান্নাকাটি ঝুলোঝুলি করে বের করে আনা জন্মদিনে পাওয়া কাঁচের আলমারীতে সাজানো  পুতুলগুলো....চুলগুলো শ্যাম্পু মাখিয়ে মাখিয়ে টাক ফেলা....চোখ খোলা বোজাগুলোর কোনো চোখই হয় পুরোপুরি খোলে না কি বোজে না... জামার লেস ছিঁড়ে ঝুলছে আর হাত পা গুলোও নড়বড়ে হয়ে আসত কেমন....কি স্বস্তি পেতাম....এতদিনে যেন ওরা পিসির  আলমারী থেকে আমার সিঁড়ি ল্যান্ডিং এ বসার যোগ্য হল .... পন্তুকাকুর টেলারিং দোকান থেকে  চেয়েচিন্তে নিয়ে আসা ছিটকাপড় দিয়ে জামা বানাতে বসতাম তাদের। পুরোনোরা এতই পুরোনো যে কিছুতেই আর পুরোনো হত না অথচ নতুন গুলোকে পুরোনো বানাতে সে কি মেহনত!কত নতুন নতুন ঠাকুর আসত মায়ের কাঠের আসনে...বেশ করে তেল সিঁদূর গংগাজলে দলাই মলাই করে তাদের পুরোনো অথেনটিক ঠাকুর বানাতে উঠেপড়ে লাগত মা নিষ্ঠাভরে.... আমরা নতুন জামা পরে সেই বহু বচ্ছরের প্রতিষ্ঠিত বাড়ির পুরোনো নারায়নের পুজো করতাম.... পুরোনো চাকর, পুরোনো ঘি, পুরোনো বই এর কি কদর!  পিসিমনিদের বাগান থেকে গোলাপ ফুল চুরি করে কিভাবে সেটার ডাঁটি টা মাটিতে ঘষে দিলে গাছ থেকে খসে যাওয়া পুরোনো ফুল মনে হবে শিখিয়েছিল  দিদিটা... কিন্তু বিশ্বাস করেনি কেউ.... ঠাস করে চড় মেরেছিল মা... কেঁদে মরে গেলেও বলিনি ফুল চুরি শেখানোর সময় দিদিটার পাশ দিয়ে একটা সবুজ সাপ কিলবিল করে ঘাসে মিশে যেতে দেখেছিলাম..... আচ্ছা মিলে যাওয়া আর মিশে যাওয়া কি এক? না বোধহয়। যেখান অব্দি ভাবতে গিয়ে পিছোতে পিছোতে আমার ভাবনাটা ঘুমের স্বপ্নে তলিয়ে যায় সেটাই হয়ত মিশে যাওয়া আর স্বপ্ন থেকে উঠে যখন দেখি টাটকা একটা সকাল হয়ে গেছে তখন মিলে যায়...আস্ত একটা দিন মেলে তখন, যেন সেই সিনেমায় শেষে খুব খানিক মারপিট হলেই "এইবারে মিল হবে" র অপেক্ষা করতাম, যদিও মিলত না, শেষের সময় আগত....এক্ষুনি নায়ক নায়িকাকে চুমু খাবে, চোখের পাতা টানটান, ঝপ করে টিভিটা বন্ধ করে সন্ধ্যে দিতে উঠে যেত মা, এ যেন হবারি ছিল... অনিবার্যতাকে আমার ভালোলাগেনা...লাগত না....কাঠপিঁপড়ে কামড়ে দিলেই আমার অনিবার্য  জ্বর  আসে...বিবিদিদিদের বাড়ির গেটে অজস্র কাঠপিঁপড়ে, গোড়ালী উঁচু করে প্রতিবারি গেট খোলার সময় হাতে কামড়ে দিত....মুহুরতে হাতটা কেমন ফোলা পাউরুটি হয়ে যেত...ডাক্তার বদ্যি...একটু ভালো হয়ে আবার ছুটে ওদের বাড়ি গেলে গেট থেকেই ওর মা গাল ফুলিয়ে বলত "আসবি না আমাদের বাড়ি, কামড় খাবি... আর তোর জন্য তোর পিসির কাছে কথা শুনতে হবে আমায়..." সত্যি ত.... আজও বুঝতে পারিনি দোষটা কার....আজও বুঝতে পারিনা ঠিক কোনটা জরুরী....সবুজ সাপের কথাটা বলা উচিত ছিল বাড়িতে? .... পিঁপড়ের কামড়...  কাকিমার সেই গাল ফুলিয়ে আসতে বারন করার পরেও রোজ বিকেলে ওদের বাড়ির সামনের রাস্তাটায় খেলা....যাতে দিদিটা একবার বই থেকে মুখ তুল্লেই দেখতে পায় আর পিসিমনিদের বাগানে খেলতে খেলতে সেইসব আজগুবি গল্পগুলো বলে যাতে মিশেল ছিল কল্পনার আর যাকে মেলাতে গিয়ে একটা একটা করে বিকেল সেলাই করে জুড়তাম...

দুই

মানুষ ঠিক কি চায় বলোত? এখনো অবধি এমন একজনাকেও দেখলাম না যে তার নিজের অবস্থান নিয়ে খুশী। যে তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে নির্বিকার। সাধু সন্নাসীর দেখা আজকাল সেরকম মেলে না। মিললে জিজ্ঞেস করতাম তারাও কি এই মানুষ-চিত রাগ ক্ষোভ হতাশা বিবাদ বিরক্তির উর্ধ্বে উঠতে পেরেছে? সত্যি বললে হয়ত উত্তরটা না ই হবে৷ আমি আজকাল একটা অভ্যেস শুরু করেছি। সফল যে হয়েছি তা বলব না তবে ঠিকঠাক অভ্যেস করলে আমার ভিতর ও বাইরের জগতে যে একটা গুরুতর পরিবর্তন আসবে সেটা এখনি বেশ বুঝতে পারছি।  নিজের মন কে নিস্তরংগ নদী বানানো কি সহজ কাজ বলো! যাতে শুধু হালকা ছন্দময় একটা গতি থাকবে। যে প্রতিকুলতাকে ডিঙিয়ে যাবে কিন্তু গুঁড়িয়ে দেবার সাধ্যি তার থাকবে না। যে বর্ষায় বন্যা আনবে না খরায় বুক ফাটাবে না এমন নদী। যার শুধু একটাই উদ্দেশ্য। অন্তিমে এসে , মিলে যাওয়া। মিশে যাওয়া। হয়ত মানব জীবনেরই এইটাই উদ্দেশ্য, এতেই সার্থকতা। 

আলোচনা এক

এই দুপুরবেলা সময়টা আমার খুব বোকা বোকা লাগে ! বিশেষ করে গরমের দুপুর । কাটতেই চায়না সময় । বই পড়ি , ফ্রিজ খুলে হাতড়াই চেনা ফ্রিজে এখনো কিছু অজানা খাবার আবিষ্কারের আশায় ! প্রতিবারেই গুড়ে বালি পরে । কিন্তু আমার এই কি করব কি করব ভাবের মধ্যে ওটাও একটা খেলা বলা যায় । আজকাল ফোন বা ফেসবুক বড্ড একঘেয়ে লাগে । বিরক্ত লাগে মানুষজনের সঙ্গও । মনে হয় আমি যা বলছি তারা তা শুনতে চায়না , তারা যা বলবে তা আমি শুনেই বা কি করব ? তারচেয়ে এই ভালো । বেশ নিজের সাথে কথা বলছি মনে হচ্ছে যেন ! 

চার

এম্নিও ডুগডুগি বাজানো যায় বটে তবে লোকজন ভারী রাগ করে দেখিচি 🤔।শুদু কি তাই,  নিস্তব্ধ দুকুরে কখনো মেলা থেকে কিনে দেওয়া দেশি ড্রাম যা কিনা দড়...